অনলাইন ডেস্ক, এটিভি নিউজ:
রাজনীতিতে পদ-পদবি বা সময়ের দূরত্ব তৈরি হলেও খাঁটি বন্ধুত্ব আর আদর্শের টান যে কখনো মলিন হয় না, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি হলো সোশ্যাল মিডিয়ায়। সাবেক দুই ছাত্রনেতার দীর্ঘ ২৫ বছর পর বুকে বুক মেলানোর একটি আবেগঘন চিত্র (যা ছবিতে দেখা যাচ্ছে) বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে।
এই ছবির পেছনে জড়িয়ে রয়েছে ত্যাগ, রক্ত ও সংগ্রামের এক দীর্ঘ গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ছবিতে আলিঙ্গনরত অন্যতম ব্যক্তিত্ব হলেন সরোয়ার উদ্দিন সেলিম। তিনি একাধারে মিরসরাই থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতিসহ মাঠপর্যায়ের নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় তিনি আজ একজন পরিপক্ক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষকে পরিণত হয়েছেন।
৯৬ থেকে ২০০০ সালের সেই উত্তাল দিনগুলো:
ছবিটি মনে করিয়ে দেয় ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সালের সেই কঠিন ও অগ্নিঝরা দিনগুলোর কথা। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশজুড়ে যখন তীব্র হাসিনা-বিরোধী আন্দোলন চলছিল, তখন চট্টগ্রাম মহানগরী এবং মিরসরাইয়ের আনাচে-কানাচে সমানতালে গর্জে উঠতো এই দুই বন্ধুর কণ্ঠ। মিছিল, মিটিং, স্লোগান আর ঝাঁঝালো বক্তব্যে তারা কর্মীদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতেন। রাজপথের লড়াইয়ে তারা ছিলেন যেন এক সুতোয় গাঁথা দুটি ফুল।
১৮ মাসে ১৮ প্রাণ ও অপূরণীয় ক্ষতি:
এই দীর্ঘ লড়াইয়ের পেছনে রয়েছে অনেক স্মৃতি, অনেক চাপা কষ্ট আর তার মাঝেই প্রিয় দল বিএনপিকে পুনরায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় দেখার এক অনিরুদ্ধ স্বপ্ন। কিন্তু এই সংগ্রামের মূল্য দিতে হয়েছে অনেক চড়া দামে। ১৯৯৬ সালের পর তৎকালীন শাসনামলের প্রথম ১৮ মাসেই মিরসরাই থানা ছাত্রদল ও যুবদলের ১৮ জন তাজা ও সম্ভাবনাময় নেতাকর্মীকে হারাতে হয়েছে।
আজ এত বছর পর দুই সহযোদ্ধার এই পুনর্মিলন যেমন আনন্দের, তেমনই সেই হারিয়ে যাওয়া ভাইদের স্মরণে বেদনাবিধুর। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নেতৃবৃন্দ পরম করুণাময়ের দরবারে প্রার্থনা করেন, আল্লাহ যেন শহীদ নেতাকর্মীদের কবরকে জান্নাতের বাগান বানিয়ে দেন এবং তাদেরকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সুউচ্চ মকাম দান করেন।
রাজনীতি ও সমসাময়িক খবরের আরও বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন এটিভি নিউজ (www.newsatvbd.com) পেজে।