বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন

নারী ও শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় এক অনন্য নাম সৈয়দা তাজনাহার কাজল

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬
  • ৮৭ Time View

একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে যারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম নোয়াখালীর পরিচিত মুখ, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও নারী অধিকারকর্মী সৈয়দা তাজনাহার কাজল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নোয়াখালী অঞ্চলের অবহেলিত নারী, শিশু এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। মানবিক মূল্যবোধ, প্রখর সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং জনকল্যাণে নিবেদিত ভূমিকার কারণে আজ তিনি স্থানীয়ভাবে একজন ‘আলোকিত নারী’ ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেছেন।

সৈয়দা তাজনাহার কাজল বিশ্বাস করেন, কেবল আইনি সংস্কার নয়, বরং সামাজিক সচেতনতাই পারে নারী ও শিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি নোয়াখালীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন এবং পারিবারিক সহিংসতা রোধে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন।

তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজস্ব উদ্যোগে এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে সভা, সেমিনার, মতবিনিময় সভা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছেন। সমাজে নারীদের পিছিয়ে থাকার বৃত্ত ভাঙতে তিনি কেবল সচেতনতাই তৈরি করছেন না, বরং অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন বৃত্তিমূলক কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে কাজ করছেন।

করোনা মহামারির সেই ভয়াবহ ও কঠিন সময়ে যখন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছিল, তখন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে অসহায়, কর্মহীন ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ান সৈয়দা তাজনাহার কাজল। প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী, জরুরি স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী এবং আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিয়ে তিনি আপামর মানুষের আস্থা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করেন। সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সেই অনন্য দৃষ্টান্ত আজও স্থানীয়দের মুখে মুখে ফেরে।

সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সৈয়দা তাজনাহার কাজল নারী নেতৃত্বের একজন বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তিনি মনে করেন, একটি উন্নত ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অপরিহার্য। তাই নারীদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নেতৃত্ব বিকাশ এবং পারিবারিক ও সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি নিয়মিত উদ্বুদ্ধকরণ ও কাউন্সিলিং করে যাচ্ছেন।

বর্তমানে তিনি নোয়াখালী জেলায় নারী ও শিশু উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন। সমাজের পিছিয়ে পড়া নারী ও শিশুদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করার লক্ষ্যে তিনি ধারাবাহিকভাবে দূরদর্শী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে চলেছেন।

স্থানীয় সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, সৈয়দা তাজনাহার কাজলের নিষ্ঠা, সততা এবং পরোপকারী মানসিকতা বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা। তাদের মতে, সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা পেলে তিনি ভবিষ্যতেও নারী ও শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নোয়াখালীর সার্বিক উন্নয়নে আরও বড় ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

নিজের কাজের অনুপ্রেরণা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সৈয়দা তাজনাহার কাজল বলেন সমাজের অবহেলিত ও অধিকারবঞ্চিত নারী এবং শিশুদের মুখে এক চিলতে হাসি ফোটানোই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ও সার্থকতা। মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমার জীবনের মূল অঙ্গীকার। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেলে ভবিষ্যতেও আমি নারী ও শিশুদের কল্যাণে আরও বৃহৎ পরিসরে, ব্যাপকভাবে কাজ করে যেতে চাই।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LiveTV
Powered By WP Solution