বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩০ অপরাহ্ন

প্রেমের ফাঁদে কোটি টাকার প্রতারণা: নার্স টুম্পাকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩০৯ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নার্স জিনিয়া তাসনিম টুম্পার বিরুদ্ধে প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার একাধিক অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, জিনিয়া তাসনিম টুম্পা যশোর নার্সিং কলেজ থেকে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সম্পন্ন করেন এবং ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান এবং সেখানেও তিনি একই উপায়ে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় তিনি এক চিকিৎসকের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং পরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই চিকিৎসককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিভিন্ন তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষ করে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে তিনি এই সম্পর্কগুলো তৈরি করতেন বলে দাবি করা হয়েছে।

ফয়সাল আহমেদ নামের এক তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, টুম্পা তাকে ব্যক্তিগত ছবি পাঠিয়ে সম্পর্কের মধ্যে জড়িয়ে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন। পরবর্তীতে প্রতারণার শিকার হয়ে তিনি বিষয়টি প্রকাশ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, টুম্পা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে পরে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতেন।
বিদেশে পাঠানোর নামেও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

মাকসুদুল আলম মঈনুদ্দিন নামের এক ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলায় তার পরিবারের সদস্যদের সংশ্লিষ্টতা উঠে আসে। এ ঘটনায় তার বাবা বাবুল আক্তার গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর কথা বলে দুই ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ৭০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫০ লাখ টাকা স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে প্রদান করা হয় (তারিখ: ০২/০৯/২০২৩)। পরবর্তীতে ২৫ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হলেও বাকি ২৫ লাখ টাকা ফেরত পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় টুম্পার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া, মো. রাসেল হাওলাদার নামের আরেক ব্যক্তি মিরপুর মডেল থানায় মানবপাচার ও প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন (পিটিশন কেস নং- ১৮০/২০২৫)।

অন্য এক ভুক্তভোগী ফারুক আহমেদ অভিযোগ করেন, তাকে ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে প্রথমে শ্রীলঙ্কা এবং পরে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে তিনি বিপদের মুখে পড়েন এবং মানবপাচারকারীদের হাতে পড়েন বলে দাবি করেন। পরবর্তীতে কারাভোগ শেষে প্রায় আড়াই মাস পর দেশে ফিরে আসেন।

তিনি দেশে ফিরে থানায় অভিযোগ করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি এবং অভিযুক্তদের খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেন।

অভিযোগগুলোতে বলা হয়েছে, একাধিক ব্যক্তি বিদেশে পাঠানোর প্রলোভনে প্রতারিত হয়েছেন এবং বড় অঙ্কের অর্থ হারিয়েছেন।

এমনকি বিদেশে গিয়ে ইতোমধ্যেই তিনি একইভাবে আরও একজন বিত্তবানকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত আছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জিনিয়া তাসনিম টুম্পার কোনো বক্তব্য না পাওয়া গেলেও তিনি তার ইন্সটাগ্রাম একাউন্টে নিজের নিউইয়র্ক আসা এবং নিজের পেশায় নিবেদিত থাকার কথা জানিয়ে লিখেছেন –

আন্তর্জাতিকভাবে প্রশিক্ষিত একজন নার্স হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রে আমার এই যাত্রার প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল একইসাথে চ্যালেঞ্জিং এবং অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
বর্তমানে আমি নিউ ইয়র্কে হাতে-কলমে মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি NCLEX-RN পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
প্রতিটি দিনই আমার কাছে শেখার, নিজেকে বিকশিত করার এবং এমন একটি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সাথে মানিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ—যে ব্যবস্থাটি উৎকর্ষ, সহমর্মিতা এবং রোগী-কেন্দ্রিক সেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
NICU এবং HD (উচ্চ-নির্ভরশীল) সেবার ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা থাকায়, রোগীদের জীবনে—বিশেষ করে সংকটপূর্ণ ও সংবেদনশীল সেবার পরিবেশে—একটি অর্থবহ পরিবর্তন নিয়ে আসার ব্যাপারে আমি অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ।

ভবিষ্যতে আমার জন্য কী অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে আমি অত্যন্ত আশাবাদী ও রোমাঞ্চিত; পাশাপাশি আমি এমন সব স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী, পরামর্শদাতা এবং সুযোগের সাথে যুক্ত হতে আগ্রহী, যা আমার নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা ও পেশাগত বিকাশে সহায়ক হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LiveTV
Powered By WP Solution