আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড ম্যাচে নজিরবিহীন লাল কার্ড: ফিফার নতুন আইনে মাঠ ছাড়লেন ব্রিল এমবোলো
বিশেষ প্রতিনিধি, newsatvbd.com
কানসাস সিটি, ১২ জুলাই ২০২৬:
ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার রোমাঞ্চকর ম্যাচে এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক লাল কার্ডের ঘটনা ঘটেছে। ম্যাচের ৭২তম মিনিটে সুইজারল্যান্ডের তারকা ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলো (Breel Embolo) বিতর্কিত ও নাটকীয় এক পরিস্থিতির শিকার হয়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, যা ফুটবল বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ব্রিল এমবোলো সরাসরি কোনো ফাউলের জন্য লাল কার্ড পাননি। তিনি মূলত ফিফার “সিমুলেশন” (Simulation – ডাইভিং বা ফাউলের ভান করা) এবং ফিফার নতুন সংযোজিত “মিসটেকেন আইডেন্টিটি” (Mistaken Identity) সংক্রান্ত ভিএআর (VAR) প্রটোকলের অধীনে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (যা পরবর্তীতে লাল কার্ডে রূপান্তরিত হয়) পান। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, রেফারিকে প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে ফাউলের ভান বা ডাইভিং করা হলে তা ‘আনস্পোর্টিং বিহেভিয়ার’ বা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হয় এবং এর জন্য হলুদ কার্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে।
ম্যাচের ৭০তম মিনিটে স্কোর যখন ১-১ সমতায়, তখন একটি চ্যালেঞ্জের মাথায় পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনহেইরো (Joao Pinheiro) প্রাথমিকভাবে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ফাউলের অপরাধে হলুদ কার্ড দেখান। কিন্তু এরপরই ডালাসের ইন্টারন্যাশনাল ব্রডকাস্ট সেন্টার থেকে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) দল মাঠে থাকা রেফারিকে ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ (ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেওয়া) রিভিউ করার পরামর্শ দেন।
অন-ফিল্ড মনিটরে (Pitchside Monitor) রিপ্লে দেখে রেফারি পিনহেইরো নিশ্চিত হন যে:
ভিডিও ফুটেজে এই ডাইভিংয়ের বিষয়টি পরিষ্কার দেখে রেফারি মাঠে ফিরে এসে পারেদেসের হলুদ কার্ডটি বাতিল করেন। এর পরিবর্তে রেফারিকে ধোঁকা দেওয়ার অপরাধে এমবোলোকে হলুদ কার্ড দেখান। যেহেতু এমবোলো ম্যাচের প্রথমার্ধে ইতিমধ্যেই একটি হলুদ কার্ড পেয়েছিলেন, তাই এই দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের সূত্র ধরে রেফারি তাকে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন।
এই সিদ্ধান্তের পর সুইস শিবিরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেও, নিরপেক্ষ ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে ফিফার আইন অনুযায়ী রেফারির এই সিদ্ধান্ত প্রযুক্তিগতভাবে সম্পূর্ণ সঠিক ছিল। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ড শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার জুলিয়ান আলভারেজের গোলে ম্যাচটি হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়।