বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫০ অপরাহ্ন

যে কারণেআর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের গোল বাতিল করে রেফারি।

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৭ Time View

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিন (১৬ দলের পর্ব) ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের একটি গোল বাতিল হওয়া নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার ভিএআর (VAR) বা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সহায়তায় মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকোর করা গোলটি বাতিল করেন।

​যেসব কারণে রেফারি গোলটি বাতিল করেছিলেন এবং এই সিদ্ধান্তের পেছনে যে নিয়মগুলো কার্যকর ছিল, তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

​১. আক্রমণ শুরুর মুহূর্তে ফাউল (Foul in the Build-up)

​মিশর যখন কাউন্টার অ্যাটাকে (পাল্টা আক্রমণ) গিয়ে গোলটি করে, তার ঠিক আগমুহূর্তে মিশরের অর্ধে একটি ফাউলের ঘটনা ঘটেছিল। ভিএআর রিভিউতে দেখা যায়, মিশরের মিডফিল্ডার মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে ফাউল করেন। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল যদি ফাউল করে বলের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং সেই একই আক্রমণ পর্ব (Attacking Possession Phase) থেকে গোল হয়, তবে সেই গোল বৈধ হবে না।

​২. জার্সি টানা ও পায়ের ওপর পা দেওয়া

​ভিএআর প্রযুক্তির মাধ্যমে নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে রেফারিকে দেখানো হয় যে, ফাউলের সময় মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় মার্টিনেজের জার্সি টেনে ধরেছিলেন এবং একই সাথে তার পায়ের ওপর পা দিয়ে চেপে ধরেছিলেন। অন-ফিল্ড মনিটরে এই স্পষ্ট ফাউলের চিত্র দেখার পর রেফারি গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।

​৩. ফাউলের সরাসরি ফল হিসেবে বলের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া

​রেফারিং বিশেষজ্ঞদের (যেমন সাবেক রেফারি অ্যান্ডি ডেভিস) ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার আক্রমণটি নসাৎ হয়েছিল মূলত আত্তিয়ার ওই ফাউলটির কারণে। যেহেতু ওই ফাউলের সরাসরি সুবিধা নিয়ে মিশর বলের নিয়ন্ত্রণ পায় এবং সেখান থেকে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে গিয়ে গোলটি করে, তাই নিয়মের দিক থেকে গোলটি বাতিল করা ছাড়া রেফারির উপায় ছিল না।

​কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এত বিতর্ক?

​রেফারি নিয়মের আওতায় গোল বাতিল করলেও ফুটবল বিশ্ব এবং মিশরের ক্যাম্প এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করছে। এর প্রধান কারণগুলো হলো:

  • ​দূরত্ব ও সময়ের ব্যবধান: ফাউলটি হয়েছিল মিশরের নিজস্ব পেনাল্টি বক্সের কাছাকাছি, যা আর্জেন্টিনার গোলপোস্ট থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে। ফাউল হওয়া এবং গোল হওয়ার মধ্যে প্রায় ১০ সেকেন্ডের ব্যবধান ছিল। সমালোচকদের মতে, এত দূরবর্তী ঘটনার জন্য ভিএআর-এর হস্তক্ষেপ করা উচিত হয়নি।
  • ​ভিএআর প্রটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ: কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালের অভিজ্ঞ মেক্সিকান রেফারি ফার্নান্দো গুয়েরেরো সহ অনেক বিশেষজ্ঞ দাবি করেছেন, এখানে ভিএআর প্রটোকল লঙ্ঘন হয়েছে। তাদের মতে, মিশর গোল করার আগে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার এবং বল কেড়ে নেওয়ার অন্তত ৩ বার সুযোগ পেয়েছিল। যেহেতু আর্জেন্টিনা বল পুনরুদ্ধারের সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হয়েছে, তাই এটিকে সরাসরি একই আক্রমণ পর্ব (APP) বলা চলে না।

​রেফারির এই সিদ্ধান্তটি ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়, যেখানে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে জয়লাভ করে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LiveTV
Powered By WP Solution