মোহাম্মদপুরে জমি নিয়ে বিরোধ: ক্রয়কৃত জমি বুঝে না পাওয়ার দাবি, বিভ্রান্তিকর প্রচারের প্রতিবাদ
নিজস্ব প্রতিনিধি : newsatvbd.com
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় জমির মালিকানা ও দখলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোহাম্মদ মোস্তাকের রহমান খোকন চৌধুরী। ২৭ সেপ্টেম্বর দেওয়া লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ২০২২ সালে চাঁদ উদ্যানের কাটাসুর মৌজায় দুটি পৃথক দলিলের মাধ্যমে মোট ৩২ দশমিক ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করলেও এর একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে বুঝে পাননি। একই সঙ্গে জমি পুনরুদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, খোকন চৌধুরী সিটি জরিপের ৫৮৩৪ নম্বর দাগের অন্তর্ভুক্ত ৩৮৫১ ও ৩৯২২ নম্বর খতিয়ানের জমি দুটি দলিলের মাধ্যমে কেনার দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, এর মধ্যে একটি দলিলের ১৬ শতাংশ জমি তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হলেও অপর দলিলের ১৬ দশমিক ১০ শতাংশ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। ওই অংশে ছাপড়া ঘর নির্মাণ করে ভাড়াটিয়া রাখার মাধ্যমে ভাড়া আদায় করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, মূল মালিকদের বিভিন্ন ওয়ারিশ জমি বিক্রি করার পর অবশিষ্ট জমির একটি অংশও দীর্ঘদিন অন্যের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরে ওই এলাকায় থাকা ছাপড়া ঘর সরানোর পর জমিটি উন্মুক্ত হলেও তাকে দাবিকৃত জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।
খোকন চৌধুরীর অভিযোগ, জমিটি নিয়ে পরবর্তীতে বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা এবং কয়েকটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে শেয়ার বিক্রির উদ্যোগের তথ্য তারা পান। এরপর উন্মুক্ত জমিতে গিয়ে নিজেদের দাবিকৃত অংশে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন বলে তিনি জানান।
তবে লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ওই সময় কোনো বাড়িঘরে প্রবেশ, ভাঙচুর কিংবা কারও সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর ঘটনা ঘটেনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তারা কেবল উন্মুক্ত জমিতে নিজেদের দাবিকৃত জায়গা চিহ্নিত করে সাইনবোর্ড স্থাপন করেছেন।
বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের অভিযোগ
দ্বিতীয় লিখিত কাগজে খোকন চৌধুরী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রচারিত বিভিন্ন সংবাদ ও তথ্যের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এতে জমির মূল দলিল, বায়া দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর, ভূমি রেকর্ড ও অন্যান্য সরকারি নথি যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়।
একই সঙ্গে কোনো ভিডিও বা ছবি প্রচারের আগে তার প্রকৃত উৎস ও ঘটনার সঙ্গে সম্পর্ক যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, জমি-সংক্রান্ত বিরোধে কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা উচিত।
পুলিশের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র
এদিকে, ২৬ সেপ্টেম্বর চাঁদ উদ্যান এলাকায় জমি দখলের চেষ্টা, অফিস ভাঙচুর ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন লোক গিয়ে পুরোনো টিনের বেড়া ভেঙে অফিসে প্রবেশ এবং পরে নতুন করে টিনের বেড়া দেওয়ার চেষ্টা করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ রয়েছে এবং উভয় পক্ষই নিজেদের কাছে বৈধ কাগজপত্র থাকার দাবি করছে। মোহাম্মদপুর থানার পক্ষ থেকে বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির কথাও বলা হয়েছে ।
অন্যদিকে, জমির দাবিদার খোকন চৌধুরী তার লিখিত বক্তব্যে ঘটনাটিকে জমি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত কিছু সংবাদকে বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন।
ফলে পুরো ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে জমিটির প্রকৃত মালিকানা, দখলস্বত্ব এবং ২৬ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় কী ঘটেছিল—তা নিয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবি। বিষয়টি নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট দলিল, খতিয়ান, ভূমি রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।