বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক আরিফ হাসনাতের বিরুদ্ধে এক নারীকে কেন্দ্র করে কেলেঙ্কারি এবং ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে ওই নারীর পরিচয় ও তার ব্ল্যাকমেইল চক্রের সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ সংবাদ প্রতিবেদন নিচে দেওয়া হলো:
নারী কেলেঙ্কারিতে বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর পরিচালক আরিফ, ১০ লাখে রফাদফা!
বিশেষ প্রতিবেদন
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক আরিফ হাসনাতের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে অবরুদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় জনতা তাকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটক করার পর একটি বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা নারীর পরিচয় এবং একটি সংঘবদ্ধ ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের তথ্যও বেরিয়ে এসেছে।
জনতার হাতে আটক ও ১০ লাখ টাকায় রফাদফা
একটি বিশ্বস্ত সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিএ’র প্রভাবশালী কর্মকর্তা আরিফ হাসনাত গত রাতে এক নারীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়েন। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সেখানে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিজের সম্মান ও চাকরি বাঁচাতে আরিফ হাসনাত তাৎক্ষণিকভাবে সমঝোতার চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ১০ লাখ টাকার একটি বিশাল অঙ্কের লেনদেন হয় বলে গুঞ্জন উঠেছে। বিপুল অঢেল সম্পদের মালিক এই কর্মকর্তার এত বিপুল পরিমাণ টাকা তাৎক্ষণিকভাবে দিয়ে পার পাওয়া নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
কে এই রহস্যময়ী নারী?
ঘটনার পর অনুসন্ধানে জানা গেছে, আরিফ হাসনাতের সাথে থাকা ওই নারীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌসী। গণমাধ্যম ও বিভিন্ন স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই নারী নিজেকে একটি সংবাদপত্রের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক (ম্যানেজিং এডিটর) হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।
মতিঝিল কেন্দ্রিক ব্ল্যাকমেইল চক্রের সন্ধান
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এবং গণমাধ্যমকর্মীদের দেওয়া তথ্যমতে, জান্নাতুল ফেরদৌসী মূলত একটি সংঘবদ্ধ ব্ল্যাকমেইল চক্রের সক্রিয় সদস্য। তার মূল টার্গেট মতিঝিল ও এর আশেপাশের এলাকার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, ব্যাংক কর্মকর্তা এবং সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। চক্রটি সুকৌশলে বিত্তশালীদের ফাঁদে ফেলে এবং পরবর্তীতে আপত্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে বা ছবি-ভিডিও ধারণ করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তা আরিফ হাসনাতও এই চক্রের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছিলেন নাকি তাদের মধ্যকার পূর্ব সম্পর্কের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে।
অঢেল সম্পদের খোঁজে তদন্তের দাবি
চাকরি জীবনে প্রভাবশালী এই বন্দর পরিচালকের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদ গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে কীভাবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ১০ লাখ টাকা দিয়ে ঘটনা রফাদফা করলেন, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এই ঘটনার পর আরিফ হাসনাতের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত এবং তার অবৈধ সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।